টিন সার্টিফিকেট এখন অনেকের কাছেই আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই নানান কারণে টিন সার্টিফিকেট করেছেন।

কেউ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে বা ব্যাংক ঋণ নিতে গিয়ে, কেউ আবার ফেসবুক মনিটাইজেশন করতে গিয়ে টিন সার্টিফিকেট করেছেন। কিন্তু পরবর্তিতে যে কী ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন তা জানতেই পারেননি।

হয়তো এখন আপনার করযোগ্য আয় নেই বা ফেসবুক থেকেও আর আয় হচ্ছে না কিন্তু এই টিন সার্টিফিকেটের জন্য যে আপনাকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে তা বেশিরভাগেরই অজানা। হুট করেই জানলেন রিটার্ন দাখিল না করায় আপনাকে জরিমানা দিতে হবে ৩০০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

ফলে এখন অনেকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই টিন সার্টিফিকেট। তবে চাইলে কিন্তু আপনি এটি এখনই বাতিল করতে পারেন। অনলাইনে করা গেলেও সার্ভারের সমস্যা বা সঠিকভাবে বুঝতে না পারায় অনেকে তা করতে পারছেন না। তারা সশরীরে কাজটি করতে পারেন।

এজন্য টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে আপনার সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে (ট্যাক্স সার্কেল) বা স্থানীয় কর অফিসে গিয়ে লিখিত আবেদন করতে হবে। বর্তমানে সম্পূর্ণ অনলাইনে সরাসরি টিন সার্টিফিকেট বাতিলের সুযোগ সীমিত; তাই সশরীরে কর অফিসে যোগাযোগ করতে হয়।

কোন পরিস্থিতিতে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা যায়?

টিআইএন বাতিলের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। যেমন-

ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে।

ভুল করে একাধিক টিআইএন হলে

কোনো কারণে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় একটি রেখে অন্যটি বাতিল করার আবেদন করা যেতে পারে।

টিআইএন আর ব্যবহার করার প্রয়োজন না থাকলে

কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য টিআইএন নেওয়া হলেও পরবর্তীসময়ে সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

আয় করসীমার নিচে নেমে গেলে

কোনো ব্যক্তির আয় কমে গিয়ে যদি তিনি করযোগ্য সীমার বাইরে চলে যান এবং টিআইএন রাখার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বাতিলের আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি

কোনো বাংলাদেশি নাগরিক কাজের কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকেন এবং বাংলাদেশে তার কোনো করযোগ্য আয় না থাকে, তাহলে দেশে থাকা অবস্থায় নেওয়া টিআইএন বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন।

করদাতার মৃত্যু হলে

কোনো করদাতা মারা গেলে তার টিআইএন আর প্রয়োজন না থাকায় সেটি বাতিল করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে হয়। তবে মৃত ব্যক্তির নামে কোনো ব্যবসা বা এমন কার্যক্রম থাকলে, টিআইএন বাতিলের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার কাগজপত্রও বাতিল করে নতুন করে করার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরাধিকারীরা টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারবেন না এ বিষয়টি আগে যাচাই করা জরুরি।

কোথায় যেতে হবে?

আপনার রেজিস্ট্রেশনকৃত বা এলাকার সংশ্লিষ্ট ট্যাক্সেস সার্কেল অফিস বা কর অঞ্চলে যেতে হবে। এটি আপনার টিন সার্টিফিকেটেই দেখুন লেখা আছে ট্যাক্সেস সার্কেল এবং জোন কোথায়।

এবার আসুন টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় ধাপ জেনে নেই-

  • টিন সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য সাধারণত করদাতাকে পরপর ৩ বছর জিরো আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
  • এরপর আপনার এলাকার উপ-কর কমিশনার বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত লিখতে হবে।
  • দরখাস্তে টিন সার্টিফিকেট কবে খুলেছিলেন, কেন খুলেছিলেন, বাতিলের উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য কারণ (যেমন : ব্যবসা বন্ধ হওয়া, করযোগ্য আয় না থাকা, বা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস) উল্লেখ করতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা : আবেদনের সঙ্গে নিচের কাগজপত্রগুলো জমা দিতে হবে-
  • ই-টিন সার্টিফিকেটের কপি
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর ফটোকপি
  • বিগত ৩ বছরের শূন্য রিটার্ন জমার রিসিট বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে করদাতার মৃত্যুসনদ/ ব্যবসা বন্ধ হয়ে থাকলে বা অন্য কোনো কারণ থাকলে তার স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণপত্র
  • আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্র ও আবেদন সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করবে। সবকিছু সঠিক থাকলে তারা আপনার টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া টিন বাতিল হয়েছে বলে ধরা যাবে না।
  • এরপর আপনাকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে যে আপনার টিন সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। মনে রাখবেন একবার বাতিল হলে এই টিন সার্টিফিকেট আর ব্যবহার করতে পারবেন না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট।